মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

১৯১৩ সালে সাদুল্লাপুর উপজেলা গঠিত হয়। ১১টি ইউনিয়ন ও ১৬৬টি মৌজা নিয়ে গঠিত উপজেলার আয়তন ২৩০.১২ বর্গ কিলোমিটার, জেলা শহর গাইবান্ধা হ’তে ১১ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এই উপজেলা উত্তরে সুন্দরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলা। পূর্বে গাইবান্ধা সদর, দক্ষিণে পলাশবাড়ী এবং পশ্চিমে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত। এ উপজেলাটি প্রায় ২৫ ডিগ্রী ১৭ ফুট ও ২৫ ডিগ্রী ৩১ ফুট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯ ডিগ্রী ২০ ফুট ও ৮৯ডিগ্রী ৩২ ফুট পুর্ব দ্রাঘিমাংশর মধ্যে অবস্থিত। সাদুল্যাপুর উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে, এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলারমতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। ঘাঘট নদীর উপকূলে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলের মানুষের ভাষা অত্যন্ত প্রাণচঞ্চল, কথার মধ্যে অনেকটাই মধুরতা রয়েছে, ভাষার মধ্যে এমন কোন কাঠিন্য ভাব নেই যা অন্য এলাকার মানুষের বুঝতে কষ্ট হয়।

ঘাঘট নদী উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কথিত আছে বহু পুর্বে এই এলাকা জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। হিন্দু রাজা ও জমিদারদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। একসময় সাইদুল্লাহ নামে এক ধর্মীয় সাধক এই এলাকায় এসে ধর্ম প্রচারের কাজ শুরু করেন। তার নামানুসারে উপজেলার নাম রাখা হয় সাদুল্যাপুর। সাদুল্লাপুরের ৮৫% মুসলমান ও অবশিষ্ট হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। এলাকার ৮০% লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। অন্যান্যরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। বহু পূর্ব হতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহনকারী এ উপজেলা সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। শিক্ষার দিক দিয়েও সাদুল্লাপুর উপজেলা পিছিয়ে নেই। শিক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় লোকদের উৎসাহে ও পৃষ্ঠপোষকতায় বেশ কতকগুলি চিত্তবিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উপজেলার মধ্যে প্রায় ৬ কি.মি. রেলপথ রয়েছে।

ওরাওঁ এই নামের আদিবাসীরা নৃতাত্ত্বিত বিচারে আদি-অষ্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্থেলীয়) জনগোষ্ঠীর উত্তর পুরুষ। এদের গায়ের রং কালো, নাক চ্যাপটা, চুল কালো ও কুঞ্চিত, উচ্চতা মাঝারি। উপমহাদেশে ওরাওদের প্র্রধান বসতি উড়িয্যা, ছোটনাগপুর, রাজমহল ও বিহারের সন্নিহিত অঞ্চলে। নৃতত্ত্ববিদগণের মতে একই অঞ্চলের মুন্ডা, মালপাহাড়ি ও সাঁওতালদের সংঙ্গে ওরাওদের ঘনিষ্ঠ জনতাত্ত্বিক সম্পর্ক রয়েছে। ভাষার দিক থেকেও এরা সবাই একই অস্ট্রিক পরিবারের অন্তভূর্ক্ত। কারো কারো মতে ‌‌কুরুখ ভাষার বিভাজিত একটি অংশের টোটেম রূপে ওরাওঁ কথাটা এসেছে।ওরাওঁআদিবাসীরা ঠিক কবে কি কারণে বাংলাদেশে এসে বসবাস শুরু করে সে সম্পর্ক নিশ্চিত কোন তথ্য নেই। বতর্মানে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও রাজশাহী জেলা ওরাওদের প্রধান বসতিস্থল। এছাড়াও গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুরের রসুলপুর ইউনিয়নে ১৫টি ওরাও পরিবার বসবাস করছে। তবে ১৮৮১ সালের লোকগণনায় দেখা যায় যে, উত্তরবঙ্গ স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে চিহ্নিত না করার কারণে বহুদিন এদের সঠিক জনসংখ্যা নির্ধারণ করা যায়নি। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে ওরাওঁ জনসংখ্যা নির্ধারণ করা যায়নি। ১৯৯১ সালের আদমগুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশে ওরাওঁ জনসংখ্যা ছিল প্রায় ছয় হাজার।